Notice Board

সভাপতির বাণী

সভাপতি

ঐতিহ্যবাহী বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভেচ্ছা। এক সময়ে ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবদিপ্ত বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিগত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে গৌরবময় পথ চলার এ বিদ্যালয় থেকে অনেক কৃতি ছাত্র—ছাত্রী তৈরি হয়েছে, যারা আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সু—প্রতিষ্ঠিত। আমি এ বিদ্যালয়ের সাথে ৬ মাস ধরে আছি। বিদ্যালয়টির প্রতি আমার প্রাণ ঢালা ভালোবাসা রয়েছে। এই বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

 

     বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাগেরহাট জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। অর্ধ শতাব্দির ও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমি আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করছি।

প্রধান শিক্ষকের বাণী

       বাগেরহাট আমলাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় বা বর্তমানে বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে কিছু কথা বলতে গেলেই আমি একটু দ্বিধায় পড়ে যাই। কি হিসাবে বলব? এই বিদ্যালয়ে একজন গর্বিত ছাত্রী হিসেবে নাকি একজন শিক্ষক হিসেবে? আমার দু’টি পর্যায়েই অনেক স্মৃতি, অনেক পাওয়া, ভালোবাসা আর সপ্ন জড়িত এই বিদ্যালয়ের সাথে। তবে সুখের বিষয় আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পর্যায়েই এই বিদ্যালয়ের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত থাকতে পেরেছি।

 

       ঐতিহ্যবাহী বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দসহ শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

 

       আমি একটু আগেই খুব সচেতনভাবে “ঐতিহ্যবাহী” শব্দটি ব্যবহার করেছি। আমাদের এই প্রানের বিদ্যালয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে। কেননা ঐতিহ্য একদিনে সৃষ্টি হয় না। একটি প্রতিষ্ঠান তার নিরন্তর চলার পথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যখন মাইল ফলক তৈরি করতে পারে এবং তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যায় তখনই সেই প্রতিষ্ঠানটি হয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী। বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় তার জন্ম লগ্ন থেকেই বিশ্বাস করে এসেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে শুধু শিক্ষিত করে তুললেই হবেনা, তাদেরকে করে তুলতে হবে প্রকৃত শিক্ষিত। যেন তারা শুধু সফলই না, যেন মানুষ হয়ে ওঠে সবদিক থেকে। আর সেই চেষ্টার জন্যই বিগত দিনে বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিনিয়ে এনেছে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের সম্মান যার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিদ্যালয়টি রাষ্ট্রিয় পুরস্কার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। জাতীয় পর্যায় থেকে খেলা—ধুলা, চিত্রাংকন, বিতর্ক, সংগীত এবং দেয়াল পত্রিকার মত বিষয়েও ছিনিয়ে এনেছে রাষ্ট্রিয় পুরস্কার। যে গৌরবে গৌরবাম্বিত হয়েছে শুধু এই বিদ্যালয়ই না —এই গোটা জনপদ। সেই গৌরবের আমিও একজন অংশিদার ভাবতেই ভালো লাগে। এই বিদ্যালয়ের সথে আমার সম্পর্ক আত্মার আত্মীয়র মত। এর ইট, কাঠ, লোহা, রং সবযেন আমার একান্ত আপন, আমার বেড়ে ওঠাযে এই বিদ্যালয়ের সাথে সাথে। আমি যদি এই বিদ্যালয়কে আমার কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে না নিতাম তবুও আমি আমার শৈশব, কৈশোর, আর প্রথম পাঠ নেবার এই বিদ্যালয় আর তার সহপাঠিদের, শিক্ষকদের, অফিসসহকারীদেরকে প্রানের আত্মিয়ই মনে করতাম— যাদের কাছে ফিরে আসা যায় বার বার দু‘ দন্ড শান্তি পাবার জন্য নিজেকে ফিরে পেতে।

       আপন মহিমায় উদ্ভাসিত বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় লোকায়ত এই জনপদে যুগ যুগ ধরে জলে যাবে আলোক বর্তিকা। দূর হয়ে যাবে অন্ধকার, অশিক্ষা আর সংঙ্কির্ণতা।

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জনাব দেলোয়ার হোসেন। এই বিদ্যালয়টি প্রথমে প্রাইমারী স্কুল অর্থাৎ তৎকালীন সময়ে বোর্ড স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রাইমারী স্কুল হিসেবে স্কুলটির যাত্রা শুরু সম্ভবত ১৯৬১ সালে। পরে ১৯৬৬ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। তখন বিদ্যালয়ের নাম ছিল বাগেরহাট আমলাপাড়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রথমে বিদ্যালয়টি ছিল টিনসেড। চারপাশে বাঁশ ও কাঠের বেড়া সম্পূর্ন ঢাকা নয় কিছু অংশ খোলা এবং মেঝে মাটির। তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী জনাব আমজাদ হোসেনকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করানের জন্য আনা হয়। তিনি পরিদর্শন করে সন্তুষ্টচিত্তে বিদ্যালয়টি উন্নতির জন্য কিছু অনুদান প্রদান করেন। তারপর বিদ্যালয়টির অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়।

বৃটিশ আমলে ১৯৩৫ সালের বিধি মতে বাগেরহাট ইউনিয়ন বোর্ড কতৃর্ক নিয়ন্ত্রিত হত শহর ও পার্শবর্তী গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয়। বর্তমানের বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সেখানে বোর্ড স্কুলরুপে পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং পূর্বে যার নাম ছিল বাগেরহাট আমলাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।

            আত্মপরিচয় আর স্বাধীকারের দাবীতে উত্তাল ৬০ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে ০১/০১/১৯৬৬ ইং তারিখে  স্থানীয় জনগনের সহায়তায় জনাব দেলোয়ার হোসেন (তৎকালীন প্রধান শিক্ষক) তাঁর নেতৃত্বে বাগেরহাট আমলাপাড়া নিম্নমাধ্যমিক ও ১৯৬৭ সালে সেই প্রচেষ্টার ধারবাহিকতায় বাগেরহাট আমলাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবতীর্তে বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামকরণ করা হয়। ১৯৬৭ সালে উচ্চ বিদ্যালয় রুপান্তরিত হওয়ার পর বিভিন্ন স্কুল থেকে ছাত্র—ছাত্রী সংগ্রহ করে ১৯৬৮ ইং সালে প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ ইং সালে যারা এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে তারা এ প্রতিষ্ঠানের ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির মূল শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য শিক্ষার্থী বাবুল, নজরুল, মানস, আফিয়া, কামরুন, সেকেন্দার, বুলবুল, হাছিনা।

            বিদ্যালয়টিতে যাদের অবদান রয়েছে : শেখ আব্দুল মালেক— আইনজীবি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, ডা: মোজাম্মেল, তসু মিয়া, লতিফ উকিল, মোসলেম ডাক্তার, জাহানারা খাতুন (প্রাক্তন শিক্ষক, বাগেরহাট সরকারী বালিকা বিদ্যালয়) যিনি তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির দুই শতক জমি দান করেন।

            তখন বিদ্যালয়টিতে যারা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন : সালেহা বেগম, মনিরুজ্জামান, অমূল্য, প্রফুল্ল কুমার সেন, নারায়ণ, অধর, মহিউদ্দিন, আশরাফ,আব্দুল হামিদ, দেবদাস সমাদ্দার, শ্রী জ্ঞানেন্দ্রোনাথ দত্ত, শ্রী ফনি ভূষন দাস, —সবিতা, ঝর্ণা, শামিমা, গোলাম মর্তুজা, বজলুল করিম, আরশাদ আলী মোল্লা, দুলাল কুমার ঘোষ, শ্রী দেবাশিষ বিশ্বাস।

তখন বিদ্যালয়টিতে যারা কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন : আব্দুল সত্তার —কলাবাড়ীয়া,

প্রথম এস.এস.সি পরীক্ষার্থী —

প্রাথমিক বৃত্তি:

            প্রথম বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী—  শামছুল আলম—১৯৬২

                                                হালিমা খাতুন—

                                                গোপাল কৃষ্ণ সমাদ্দার—

                                                মনিরুজ্জামান—১৯৬৩

                                                সালেহা খাতুন—

                                                খোন্দকার মঈনুল ইসলাম—

                                                মনিরা বেগম

                                                আমিরুল হক

                                                ফয়জুল কিবরিয়া

                                                সবুরা খাতুন

                                                বাসন্তি রানী গুহ —১৯৬৪

                                                সোহায়েব আহমেদ আবেদী

                                                অনিন্দ্য সুন্দর আইচ

                                                হাফিজুর রহমান—১৯৬৫

                                                সেকেন্দার আলী

                                                মানস কুমার সরকার

                                                সুনিল কুমার দে —১৯৬৬

                                                রফিকুল আলম

                                                স্বপন কুমার চক্রবর্তী —১৬৬৭

                                                দীপক কুমার সাহা —১৯৬৮

                                                জ্যোতিষ্ময় দেবনাথ১৯৬৯

                                                দীপক কুমার বিশ্বাস—১৯৭০

                                                নাঈমা ফেরদৌসী

                                                মো: আব্দুস সামাদ

                                                শহীদুল ইসলাম

                                                কাজী সাহিন—১৯৭১ থেকে ধারাবাহিক ভাবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান।

 জুনিয়র বৃত্তি:

                                                খন্দকার মঈনুল ইসলাম—

                                                ফয়জুল কিবরিয়া—১৯৬৭

                                                অনিন্দ্য সুন্দর আইচ

                                                সোহায়েব আহমেদ আবেদী—১৯৬৮

                                                মানস কুমার সরকার

                                                সেকেন্দার আলী—১৯৬৯

                                                স্বপন কুমার চক্রবর্তী

রফিকুল আলম—১৯৭০

এস.এম.গোলাম মোস্তফা —১৯৭১

দীপক কুমার বিশ্বাস—১৯৭৩

নাঈমা ফেরদৌসী

আব্দুস সামাদ—১৯৭৪

কল্যাণ কিশোর দেবনাথ

মাকছুদা খানম

সিরাজুল ইসলাম

ওবায়দুল হক

জান্নাতুল ইসলাম—১৯৭৫

মিজানুর রহমান

আবুল কালাম—১৯৭৬

শেখ জাহিদুজ্জামান স্বপন—১৯৭৭

মাহবুব খলিল টিপু—১৯৭৮

নুরুল হক

কামরুজ্জামান চৌধূরী—১৯৭৯

মাহবুবুর রহমান

নাছিমা ফেরদৌসী—১৯৮০ থেকে বর্তমান

 স্টান্ড করা শিক্ষার্থী—

এছহাক আলী  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭২ ৬ষ্ঠ তম

শাহদাত হোসেন  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭২ ৬ষ্ঠ তম

এস.এম গোলাম মোস্তফা  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭৪ ৭ষ্ঠ তম

 শহীদুল ইসলাম  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৭৬ ২য় তম

নাছিমা ফেরদৌসী  বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৮৩ ৩য় তম (বালিকা)

বিষ্ণুপদ সেন বানিজ্য  বোর্ড স্টান্ড—১৯৮৩ ৭ম তম

অশোক কুমার সমাদ্দার  বিজ্ঞান  বোর্ড স্টান্ড—১৯৮৮ ১৫ তম

            কৃতি শিক্ষার্থী (স্বর্ন পদক)— 

মেরিনা বেগম— দীর্ঘ লাফ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৭৪

মেরিনা বেগম— দীর্ঘ লাফ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৭৫

শায়লা নাসির কেয়া— কবিতা আবৃতি দ্বিতীয় স্থান ১৯৮৪

আয়শা সিদ্দিকা মানি— ছবি অংকন স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৮০

মঈনুল করিব— মুষ্টি যুদ্ধ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৭৯

পিযুষ কান্তি মন্ডল— বাটার মুষ্টি যুদ্ধ স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৮৫

মাহফুজুর রহমান মুরাদ— সাঁতার  স্বর্ন পদক প্রথম স্থান ১৯৮৫

            শিক্ষা, ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি জাতীয় প্রতিযোগীতায়, বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ স্থান অধিকার করে এ বিদ্যালয়টি বাগেরহাট জেলায় গৌরব বৃদ্ধি করেছে তারই স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভে সক্ষম হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জনাব দেলোয়ার হোসেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

প্রতিষ্ঠাতা প্রধান
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক
বাগেরহাট আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়

0 +

শিক্ষক

0 +

বিভাগ

0 +

শ্রেণিকক্ষ

0 +

শিক্ষার্থী

মিডিয়া গ্যালারী